Deleted
প্রকাশঃ 4-মে-2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

দুই মাসে লাখ টাকার মাটি বিক্রি, পুকুর খননে প্রশাসনের চোখ নেই

জয়পুরহাট জেলা পরিষদের মালিকানাধীন   ১১ বিঘা আয়তনের একটি পুকুর আড়াই বছরের জন্য  ইজারা নেন হাবিবুর রহমান মল্লিক নামে একব্যক্তি। তিনি তাঁর ইজারা নেওয়া পুকুরটি  আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির নেতা আবু তালেব মন্ডলকে   দেখভালের দায়িত্ব দিয়েছিলেন।  তিনি  এই  দায়িত্ব পেয়েই দুই মাস ধরে পুকুরটি গভীর করে খনন করে লাখ-লাখ টাকার মাটি বাইরে বিক্রি করেছেন। তিনি শুধু মাটি নয়  পুকুর থেকে বোডিং করে বালুও উত্তোলন করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
  পুকুরের মালিক  জেলা পরিষদ। তবে এই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা পুকুর খনন করার কথা আগে  জানতেন না। পুকুর সংস্কারের অনুমতিও দেওয়া হয়নি। গভীর করে খনন করায় পুকুরপাড়ের বাসিন্দারা বাড়িঘর ভাঙনের আশঙ্কায়  ঘটনাটি জেলা পরিষদের কর্মকর্তাদের জানানো হয়। এরপর স্থানীয় প্রশাসন পুকুরের খনন কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।  ততদিনে বিএনপি নেতা আবু  তালেব প্রায় ২৬ লাখ টাকার পুকুরের মাটি বাণিজ্য করেছেন। এঘটনাটি জানাজানির পর জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ পুকুরের ইজারা বাতিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
    জেলা পরিষদের ১১ বিঘা আয়তনের পুকুরটির অবস্থান আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের আলী মাহমুদপুর গ্রামে। পুকুরের দেখভালে দায়িত্বে থাকা  উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আবু তালেব মন্ডলের বাড়ি একই ইউনিয়নের  পাশের বারইল গ্রামে। আবু তালেব মন্ডল গোপীনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমানের ভাই। পুকুর ইজারাদার হাবিবুর রহমান মল্লিকের বাড়ি জয়পুরহাট সদর উপজেলার সাহাপুর গ্রামে।
    জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের অক্টোবর মাসে জেলা পরিষদের মালিকানাধীন ২১ টি পুকুর ইজারা দেওয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এরমধ্য আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের আলী মাহমুদপুর গ্রামের ৩.৬৭ একর পুকুর ছিল। হাবিবুর রহমান মল্লিক ৬ লাখ ৫১ হাজার ১০০ টাকায় পুকুরটি গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে আড়াই বছরের জন্য ইজারা পান। তিনি প্রথম বছরের ২ লাখ ১৭ হাজার ৩৩ টাকা ইজারা টাকা পরিশোধ করেন। জেলা পরিষদ থেকে তাঁকে  পুকৃর বুঝিয়ে দেওয়া হয়। 
    আলী মাহমুদপুর গ্রামের বাসিন্দারা জানান, গত ফেব্রুয়ারি মাসে হঠাৎ করে বিএনপি নেতা আবু তালেব মন্ডল পুকুর খনন কাজ শুরু করেন। তিনি প্রথমে পুকুরের খনন করা মাটি পুকুরের পাড়ে দেন। এরপর পুকুরের মাটি বাইরে বিক্রি শুরু করেন। জেলা পরিষদ থেকে তাঁকে পুকুর খনন করা অনুমতি দিয়েছে বলে তাঁদেরকে জানান। তিনি পুকুর খননের পর বোডিং করে বালু উত্তোলন করতে শুরু করেন। পুকুর তলা থেকে পাড় পর্যন্ত ৩১ ফুট গভীর করে খনন করা হয়। পুকুর পাড়ের ওপর বাড়িঘর রয়েছে। গভীর করে খনন করায় পুকুর পানিতে ভরে গেলে পাড়ের ওপর থাকা বাড়িঘর ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে। তাঁরা খননের  দুই মাস পর এপ্রিল মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে জেলা পরিষদের কর্মকর্তাদের জানান। জেলা পরিষদের কর্মকর্তারা পুকুর খননের কোন অনুমতি দেননি বলে তাঁদের জানান।   ৫-৭ ফুট গভীরতা করে চারিদিকে পাড় ও ঢাল মেরামত করার  একটি মতামত গ্রামবাসীদের দেখান আবু তালেব মন্ডল। সেখানে জেলা পরিষদের কর্মকর্তাদের কার স্বাক্ষর নেই। আক্কেলপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার  (ভূমি), উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ইমরান হোসেন ও উপজেলা মৎস্য সম্প্রাসারণ কর্মকর্তা মোঃ মোশফিকুর রহমানের স্বাক্ষর রয়েছে। 
    আলী মাহমুদপুর গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম  বলেন, গোপীনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমানের ভাই  বিএনপি নেতা আবু তালেব মন্ডল  জেলা পরিষদের পুকুরটি ৩১ ফিট গভীর করে খনন করেছেন। তিনি দুই মাস ধরে ২৬ লাখ টাকার পুকুরের মাটি বিক্রি করেছেন। তিনি পুকুরের ইজারাদারও নন। শুধু ক্ষমতার বলে তিনি এ কাজটি করেছেন। তিনি প্রভাবশালী হওয়ায়  আমাদের কারও কথা  শোনেননি। নিজের ইচ্ছামতো গভীরতা করে পুকুর খনন করেছেন। এতে রাস্তা ও বাড়িঘর ঝুঁকিতে পড়েছে।
    বিএনপি নেতা আবু তালেব মন্ডল  বলেন, পুকুরটি নাব্যতা ছিল না। যে ব্যক্তি পুকুর ইজারা নিয়েছিলেন তিনি আমাকে দেখভালের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। মাছ চাষের উপযোগী করতে পুকুর খননের কাজ করেছি। স্থানীয় প্রশাসন বাঁধা দেওয়ায় এখন খনন কাজ বন্ধ রেখেছি। ২৬ লাখ টাকা মাটি বিক্রি বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাইরে মাটি বিক্রি করেছি সত্য। তবে ২৬ লাখ টাকার মাটি বিক্রি হয়নি। 
     ইজারাদার হাবিবুর রহমান মল্লিক বলেন, আমি গত বছরের নভেম্বর মাসে জেলা পরিষদ থেকে পুকুরটি ইজারা পেয়েছি।  আমার বাড়ি থেকে পুকুর থেকে অনেক দূরে আর আবু তালেব মন্ডলের বাড়ি পুকুরের পাশের গ্রামে। তাই আবু তালেব মন্ডলকে পুকুর দেখভালের দায়িত্ব দিয়েছিলাম। আবু তালেব  সবাইকে ম্যানেজ করে পুকুর খননের কাজ করছিলেন। কিন্তু গ্রামবাসীরা তাঁতে বাঁধা দিয়েছেন। জেলা পরিষদ এখন আমার পুকুরের ইজারা বাতিল করবে বলে শুনতে পাচ্ছি।
  জয়পুরহাট জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার মোহাম্মদ রায়হান বলেন, জেলা পরিষদ হাবিবুর রহমান মল্লিককে পুকুর ইজারা দেওয়া হয়েছে। তিনি পুকুর সংস্কারের জন্য জেলা পরিষদ থেকে অনুমতি নেননি। তিনি অনুমতি ব্যতিরেখে পুকুর খনন কাজ  করেছেন। সেটি আমরা জানতাম না। বিষয়টি জানার পর স্থানীয় প্রশাসনকে খনন কাজ বন্ধ করার জন্য বলেছি। এখন পুকুরের খনন কাজ বন্ধ রয়েছে। ইজারার শর্ত ভঙ্গ করায় গত ২৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত জেলা পরিষদের মাসিক সভায় পুকুরের ইজারা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন চিঠি দিয়ে তাঁর ইজারা বাতিল করা হবে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

খুলনায় পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্সের বীমাদাবীর ২ কোটি ১২ লক্ষ ট

1

ধামইরহাটে ১৭০ তম মহান সান্তাল হুল দিবস পালিত

2

নওগাঁর তপোবন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভুয়া ভাউচারে প্রকল্পের টা

3

বিএনপি'র ৩১ দফা বাস্তবায়নে সাবেক এমপি গোলাম মোস্তফার লিফলেট

4

ক্ষেতলালের ফুলদিঘী হাটে সেনাবাহিনীর অভিযান, অতিরিক্ত টাকা ফে

5

কালাইয়ে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ১

6

বাংলাদেশের কাছে আফগানিস্তান হারল যেখানে

7

বিএনপি-জামাতের তকমা দিয়ে উন্নয়ন বঞ্চিত বড়মানিকা উচ্চ বিদ্য

8

পাঁচবিবিতে একই দিনে ৫ বাড়ীতে দূর্ধষ চুরি

9

ডোবায় ডুবে গেল স্বপ্ন: আম ধুতে গিয়ে প্রাণ হারাল শিশু

10

ঈদ উল আযহা আত্মত্যাগ ও সহমর্মিতার বার্তা: শাহিনুর রহমান হামি

11

কালাইয়ে সবুজ ধানের পাতায় দুলছে কৃষকের স্বপ্ন

12

সান্তাহার ইউনিয়ন পরিষদের আড়াই কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

13

সান্তাহারে দুই স্টারসহ তিন খাবার হোটেলে ৭০ হাজার টাকা জরিমান

14

কালাইয়ে বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প

15

এ বছর ৩ আগস্ট বিচার, সংস্কার, নতুন সংবিধান এবং দেশ পুনর্গঠনে

16

সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীর বয়স ন্যূনতম ২৩ করার প্রস্তাব গণ অধি

17

জয়পুরহাটে এনসিপির বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ

18

নওগাঁয় বাজার পরিস্থিতি ও নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক মত বিনিময় সভা অন

19

তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন।

20